সামাজিক জীব হিসেবে মানুষের পক্ষে সমাজে একা বসবাস করা সম্ভব নয়। নিঃসঙ্গতা কাটানোর জন্য, বিপদে সহযোগিতা পাওয়ার জন্য সামগ্রিকভবে সাহচর্য লাভের জন্য একজন বন্ধুর একান্ত প্রয়োজন।মানুষ জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে একজন ভালো বন্ধুর প্রয়োজন। কারণ,একজন প্রকৃত বন্ধু জীবনের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নার অংশীদার হয়।বন্ধুত্ব বলতে আমরা কী বুঝি! প্রাচীন প্রবাদে বন্ধুত্বের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলা হতো, ‘সম্পর্ক যখন জ্বরে পুড়ে তখন তার নাম হয় ভালোবাসা, আর ভালোবাসা যখন জ্বরে পুড়ে তার নাম হয় বন্ধুত্ব। প্রকৃত বন্ধুই পারে আত্মার আত্মীয় হয়ে কিছুক্ষণের জন্য হলেও দুঃখ-কষ্টকে ভুলিয়ে রাখতে। তবে মানুষ চেনা সহজ নয়। বন্ধু চেনা আরো কঠিন। বিশ্বাস রাখার মতো বন্ধু এই সময়ে খুঁজে পাওয়া নিতান্তই দুরূহ কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর সে জন্য বন্ধু নির্বাচনে দেখতে হবে তার বুদ্ধিমত্তা, সততা, সত্যবাদীতা এবং স্বভাব-চরিত্রে ভালো কি না। জীবনে চলতে গেলে বন্ধুর সান্নিধ্য চাই সবারই। আবার চলতি পথে ব্যস্ততা কিংবা জীবন ধারার অদল-বদলের কারণে অনেক বন্ধুকে হয়তো নেহাত অনিচ্ছাতেই হারিয়ে ফেলি আমরা। একইভাবে পরিবেশ আর পারিপার্শ্বিকতার কারণে কখনো কখনো সন্ধান করতে হয় নতুন বন্ধুত্বেরও। আর নতুন বন্ধু খোঁজার এই সময়টায় কিছু বিষয়ের প্রতি লক্ষ রাখতে না পারলে তা সময়ের পালাবদলে অনেকের জন্যই বন্ধুত্ব কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। একজন ভালো বন্ধু পাওয়ার প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো বন্ধুত্বের সম্পর্কের মাঝে কোনো ধরনের স্বার্থ কিংবা প্রাপ্তির চিন্তা মাথায় না রাখা। মনে রাখবেন স্বার্থের প্রয়োজনে করা বন্ধুত্ব আপনাকে একটা সময়ে লাভবান করলেও চূড়ান্ত বিচারে আপনাকে করে তুলতে পারে নিঃসঙ্গ। এ কারণে কোনো ধরনের প্রাপ্তির চিন্তা থেকে নয়, বরং নিজের ভালোলাগা আর ভালোবাসাগুলোকে ভাগাভাগি করে নেয়াই হোক বন্ধুত্বের প্রথম দাবি। দ্বিতীয়ত, বন্ধুত্বের মাঝে যেন ভুল বোঝাবুঝি বা মনোমালিন্য সহজেই স্থান করে নিতে না পারে সেজন্য নতুন করে বন্ধু হওয়ার মানসিকতাটুকু বোঝাও কম-বেশি জরুরি। এক্ষেত্রে শুধু যে সমমানসিকতাসম্পন্ন মানুষেরাই আপনার বন্ধু হবেন তেমনটা কিন্তু নয়, বরং নতুন বন্ধুর মানসিকতা যেমনই হোক না কেন তার প্রতি আপনার সহনশীলতা এবং আপনার মতের প্রতি তার সমর্থনই পারে একটা নির্ভেজাল বন্ধুত্ব গড়ে দিতে। নতুন কারো সাথে বন্ধুত্ব গড়বার মাধ্যমে আপনি যেমন আপনার মনের কথা কিংবা কাজের পরিবেশের অনেক কথা ভাগাভাগি করে নিতে চান, তেমনি আপনার বন্ধুটির মনেও একই রকম আকাঙ্ক্ষা থাকাটা স্বাভাবিক। কাজেই নিজের কথা বলার পাশাপাশি বন্ধুর কথা শুনতে চাইবার মানসিকতাটাও থাকা জরুরি। আর এ প্রেক্ষাপটে খুব বেশি মাত্রায় আত্মকেন্দ্রিক কোনো মানুষের সাথে বন্ধুত্বে জড়ানোর আগে অবশ্যই তার সাথে আপনি কতটা মানিয়ে নিতে পারবেন সে বিষয়টুকু ভেবে দেখা দরকার। বন্ধুত্বের যেমন সুনির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞা হয় না, তেমনি বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রেও ধরাবাঁধা কোনো নিয়মের কথা বলা যায় না। তবে বন্ধুত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে বয়স, লিঙ্গ বা সামাজিক অবস্থান যেন মুখ্য হয়ে না দাঁড়ায় সেটি অবশ্যই লক্ষ রাখতে হবে। আবার বন্ধুত্ব হয়ে যাবার পর এ ধরনের চিন্তাও মাথা থেকে সরিয়ে দিতে হবে। কেননা যাদের কাছে বন্ধুত্বের আবেগের চাইতে নিজের অবস্থান অনেক বেশি মুখ্য তাদের সাথে কখনও প্রাণখুলে বন্ধুত্বের আনন্দটুকু উপভোগ করা যায় না। আবার বন্ধুর ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে যারা খুব বেশি কৌতূহল দেখান বা বন্ধুর কোনো বিষয়ে যারা উপযাচক হয়ে অযাচিত উপদেশ বিলাতে ভালোবাসেন তাদেরকেও নতুন বন্ধু হিসেবে নির্বাচন করতে সতর্ক হতে হবে। সর্বোপরি নতুন বন্ধু হিসেবে কারো দিকে হাত বাড়াতে বা কারো বন্ধুত্বের ডাকে সাড়া দিতে তার মানসিকতা, বন্ধুর প্রতি তার মূল্যায়ন সম্পর্কেও কম-বেশি জানতে এবং বুঝতে হবে। তাই বন্ধু নির্বাচন করার ক্ষেত্রে আপনার বিচার বিবেচনা করে নেওয়া উচিত।
বন্ধু চেনার কয়েকটি সহজ উপায়ঃ

০১। কারো প্রতি মন আকৃষ্ট হলেই তার সাথে বন্ধুত্ব করতে হবে এমনটা ঠিক নয়, বরং প্রথমে পর্যালোচনা করে দেখতে হবে ভালো লাগা বা তার প্রতি আকর্ষণের কারণ কিংবা উত্সটা কী এবং সে আদৌ বন্ধু হবার যোগ্য কি না ইত্যাদি।

০২। হঠাত্ করে কারো সাথে পরিচিত হবার মধ্য দিয়ে অর্থাত্ কোনো রকম বিচার বিশ্লেষণ ছাড়া বন্ধুত্ব গড়ে উঠলে অনেক সময় দুঃখজনক পরিণতি ঘটতে পারে।

০৩।বন্ধু চাহিবামাত্র তাকে সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু টাকা ধার দিন। এই টাকা পাওয়ার আশা আপনি ত্যাগ করুন। ধরে নিন এটা আপনার ইনভেস্ট। এরপর চুপচাপ লক্ষ করুন বন্ধু কথা অনুযায়ী আপনাকে টাকা ফেরত দেয় কি না। দিলে কীভাবে দেয়। আপনার পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে তার সদিচ্ছা বা মনোভাব কেমন সেটা লক্ষ করুন। ব্যস্ এতেই চলবে... আপনি বুঝে যাবেন যা বোঝার।

০৪।আপনি কৃত্রিম সংকট তৈরি করুন। ভাব দেখান আপনি অনেক বিপদে পড়েছেন। এবার বন্ধুর সাহায্য চান। আপনাকে সাহায্যের ব্যাপারে প্রিয় বন্ধুর সদিচ্ছা বা মনোভাব কেমন সেটা লক্ষ করুন। এবার খুব সহজেই বুঝতে পারবেন, সে আপনার কেমন বন্ধু।

কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই আমরা সত্যিকারের বন্ধুদের খুঁজে পাই না, তাই বন্ধু নির্বাচনের এই ভুলটা অনেক সময়ই আমাদের বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।



এক সময় কম্পিউটারের ফ্লপি ডিস্কে ১.৪৪ এমবি জায়গায় স্টোর করে রাখা হত নিদেনপক্ষে একখানি পাসপোর্ট সাইজ ছবি। সাইজ একটু ছোট হলে দুটি ছবিও রাখা যেত। ক্রমে সিডিতে রাইট করার চল হল। সেখান থেকে ডিভিডি। সে সময়ও পেন ড্রাইভের চল ছিল। তবে একটু বেশি স্পেসযুক্ত পেন ড্রাইভের দাম সাধারণের আয়ত্তের মধ্যে ছিল না। ধীরে ধীরে প্রযুক্তির বিবর্তনের সাথে সাথে পেন ড্রাইভের দামও যেমন কমল, স্পেসও তেমন বাড়ল। এখন তো ১২৮ জিবি বা ২৫৬ জিবি স্পেসের পেন ড্রাইভ প্রায়ই দেখা যাচ্ছে। কিংসটন সম্প্রতি সব পেন ড্রাইভকে টেক্কা দিয়ে ২ টেরাবাইট পেনড্রাইভ বাজারে আনল। এতে এক্সটার্নাল হার্ডডিস্কের মতো আলাদা চার্জ করার প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র ইউএসবি পোর্টে কানেক্ট করলেই হল। এ নাম দেয়া হয়েছে ডেটা ট্রাভেলার আল্টিমেট জেনারেশন টেরাবাইট। ফ্ল্যাশ ড্রাইভটি USB 3.1 জেন 1 সাপোর্ট রয়েছে সাথে। প্রশ্ন আসতেই পরে এতে কী কী স্টোর করা যাবে? কতটা স্টোর করা যাবে? স্পেস তো আগেই জানেন। এ বার স্টোরেজের নমুনা শুনুন। ফুল HD 4K ভিডিও ৭০ ঘণ্টা পর্যন্ত স্টোর করা যাবে। ড্রাইভটি তৈরি করা হয়েছে জিঙ্ক-অ্যালয় মেটাল কেসিংয়ে। যাতে হঠাৎ করে আসা কোনো আঘাত সহজে সহ্য করতে পারে। আগামী মাস থেকে বাজারে এই পেন ড্রাইভ চলে আসবে বলে সংস্থা সূত্রে জানানো হয়েছে। 1TB এবং 2TB ক্যাপাসিটি-র দুটি পেনড্রাইভই বাজারে আসবে। এর সাথে পাঁচ বছরের ওয়ারেন্টি এবং বিনামূল্যে টেকনিকাল সাপোর্ট মিলবে।
উইন্ডোজ ১০, ৮.১, ৮, ৭ (সার্ভিস প্যাক ওয়ান), ম্যাক OS v.10.9.x+, লিনাক্স v.2.6.x+, ক্রোম অপারেটিং সিস্টেমে এই পেনড্রাইভ কাজ করবে।

আপনার মোবাইলে আছে মাত্র ৪ এমবি। এমন সময় অনলাইনে কাউকে কল দেওয়ার প্রয়োজন আপনার। কিন্তু ডাটা অন করার সঙ্গে সঙ্গে মোবাইলে থাকা অন্য অ্যাপসগুলোর কারণে ওই ৪ এমবি শেষ হয়ে মোবাইলের ব্যালেন্স কাটাও শুরু! এমন বিড়ম্বনায় পড়েননি খুব কম মানুষই আছেন। বিশেষত মোবাইল নেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচাইতে বেশি এই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। আর এমন বিড়ম্বনা থেকে বাঁচাতে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান শেখ সফট-এর ডেভোলোপার শেখ শামীমুল ইসলাম নিয়ে এসেছেন নতুন মোবাইল অ্যাপস ‌‌‌’ইন্টারনেট গার্ড ডাটা সেভার’।


এই অ্যাপস ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি নিশ্চিত করতে পারেন কখন কোন অ্যাপস আপনার মোবাইল ডাটা বা ওয়াইফাই ডাটা ব্যবহার করবে। আপনি চাইলে শুধুমাত্র একটি অ্যাপসের জন্য আপনার ডাটা সার্ভিস চালু করতে পারবেন। ফলে ফেসবুক বা টুইটার ব্যবহারের সময় আপনার মোবাইলে থাকা অন্য অ্যাপসগুলো ডাটা গ্রহণ করতে পারবে না। এই বিশেষ অ্যাপসটি ব্যবহারের মাধ্যমে আপনার প্রয়োজনীয় অ্যাপসটি পাবে বাড়তি ইন্টারনেট গতি। অর্থাৎ অন্য অ্যাপসগুলো ডাটা সংগ্রহ না করলে নির্দিষ্ট একটি অ্যাপস পাবে আপনার সম্পূর্ণ ইন্টারনেট স্পিড।

অ্যাপসটি ডাউনলোড করা যাবে গুগোল প্লে স্টোর থেকে। অথবা এই লিংকে ক্লিক করেও আপনি অ্যাপসটি পেতে পারেন: https://play.google.com/store/apps/details?id=eu.sheikhsoft.inteetguard

অ্যাপসটির বাড়তি ফিচার হিসেবে রয়েছে লোকাল ভিপিএন এবং অ্যাডাল্ট ওয়েব সাইট ব্লক করার ব্যবস্থা। লোকাল ভিপিএন-এর মাধ্যমে আপনি চাইলে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন আপনার মোবাইলে দেখানো অন্যান্য অ্যাপসের বিজ্ঞাপনকে। শুধু তাই নয়, আপনার বিরক্তিকর ব্রাউজার পুশ নোটিফিকেশনও বন্ধ রাখতে পারেন আপনি এই অ্যাপসের মাধ্যমে।

এ ছাড়াও আপনার মোবাইল থেকে যেন কোন অ্যাডাল্ট সাইটে ভুল করে প্রবেশ করা না যায়, সেই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এই অ্যাপসে। এর মাধ্যমে ব্লক করা সম্ভব অ্যাডাল্ট সাইট ও অ্যাডাল্ট সাইটের বিজ্ঞাপনকে। ‘ইন্টারনেট গার্ড ডাটা সেভার’ সেভ করবে মোবাইল ডাটা। সেই সঙ্গে অ্যাডাল্ট সাইটের ফিশিং থেকে নিরাপদ রাখবে আপনার মোবাইলকে।


ফেসবুক নিরাপদ রক্ত পেতে জনগণের জন্য নিরাপদ রক্তদান প্রক্রিয়া আরো সহজ করতে আজ একটি রক্তদান কর্মসূচি উদ্বোধন করেছে। ফেসবুক হেল্থ-এর প্রডাক্ট লিডার হেমা বুদারাজু বাসসকে বলেন, বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও নিরাপদ রক্তের ঘাটতি রয়েছে। রোগী এবং তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ রক্ত সংগ্রহ করতে অনেক ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হয়। তারা যাতে চাহিদা মতো প্রয়োজনীয় নিরাপদ রক্ত পেতে পারে এ জন্য ফেসবুক আরো সহজ ও কার্যকরভাবে রক্তদাতা ও গ্রহীতাকে খুঁজে পেতে একটি ফিচার চালু করেছে।

তিনি বলেন, আমরা অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য খাত বিশেষজ্ঞ, গুরুত্বপূর্ণ দাতাগণ এবং জনগণের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছি। রক্তদাতাদের খুঁজে বের করতে যারা ফেসবুক ব্যবহার করে, তাদের সুবিধার্থে এই ফিচারটি ডিজাইন করা হয়েছে।

হেমা বলেন, রক্তদাতাদের উৎসাহিত করার জন্য ফেসবুক নিউজ ফিডে একটি বার্তা থাকবে। ব্যবহারকারী সাইন-আপ করার জন্য প্রোফাইল এডিট করতে পারবে। ব্যবহারকারীদের সব তথ্য গোপনীয় থাকবে এবং বাই ডিফল্ট শুধু অনলি মি সেট করা থাকবে। কিন্তু জনগণ তার রক্তের অবস্থা বা ব্লাড ডোনার স্টেটাস শেয়ার করতে পারবে।

ফিচারটি সম্পর্কে এনড্রয়েট, আইওএস এবং বাংলাদেশীরা ফেসবুক.কম/ডোনেট ব্লাড এ গিয়ে বিস্তারিত জানতে পারবে এবং একজন ব্লাড ডোনার হিসেবে সাইন-আপ করতে পারবে।

ফেসবুকের সাউথ এশিয়া প্রোগ্রাম হেড রিতেশ মেহেতা বলেন, আমরা আশা করছি, জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশে রক্তদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক রক্তদান ও গ্রহণ কার্যক্রম আরো সহজতর হবে যা আগে সম্ভব ছিল না।-বাসস


MARI themes

Powered by Blogger.