Showing posts with label Poem. Show all posts


জীবনে চলার গতিপথে হাজার মনের সাথে
হয়েছে আমার মনের শত যোগাযোগ,
এখনো পাইনি আমি আপনার মত করে
খুব সাধারণ একটি মনের খোঁজ ।
ব্যস্ততার ঘেড়াকলে ভালবাসা কারে বলে
সেসব কিছু ভুলে, সবার ভিতরেই শুধু অর্থের লোভ ।
আমি দেখেছি উৎ পেতে নেত্র মেলে
অর্থ গাম্ভীর্যের মত্ত ধ্যানে সবার মাঝেই
ক্রোধে ভরা অহংকারবোধ ।
সত্য সুপথ ভুলে হিংসা বিদ্বেষ ভরা সুযোগ পেলেই
অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয় সবাই নিজের সব দোষ,
আহা ! এটাই আমার মহা ক্ষোভ আপছোস ।
এই মহা ভূবন জুড়ে হাজার কোটি মানুষের বসবাস
কত ছলা-কলা কৌশলে, নিত্য সুখের লাগি
ছলনার ছলে অর্থ বিত্ত গড়ে জীবনের মানে ভুলে
সবাই নিজ সত্ত্বা সফে দেয় অসৎ পথেঅসন্তোষ !
মনের শত দুঃখ বক্ষে জমে আছে, আজও পাইনি
আমি আপনার মত করে
খুব সাধারণ একটি মনের খোঁজ ।
আজও পাইনি আমি আপনার মত করে
আমার সারাবেলা সঙ্গে চলা দোসরের খোঁজ ।
আমি কত কী দেখেছি এই জীবনে
শৈশব ছেড়ে কিশোর, কিশোর ছেড়ে যৌবনে
যৌবন ছেড়ে বার্ধকের পথে
পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ভব
ঘুরে সন্ন্যাসী হয়ে
কত কী দেখেছি আলো আর আঁধারের মাঝে
আমি দেখেছি সবার ভিতরেই অসৎ অর্থের লোভ।
তব আজও পাইনি আমি আপনার মত করে
খুব সাধারণ একটি মনের খোঁজ ।


শৈশবে এক মেঘবালিকার দেখা পেয়েছিলাম।
মেঘে মেঘে ছুটে বেড়াত মেঘবালিকা।
আমাকেও ভাসিয়ে নিয়ে যেত সেই মেঘের দেশে।
এ যেন অন্যজগত চারিদিকে ফেনা ফেনা মেঘ, যেন স্বপ্নের এক দেশ।

শৈশব-কৈশোর পেরিয়ে আমি এখন যৌবনে,
মেঘবালিকাও আর আগের মত নেই,
সবাই তাকে এখন বৃষ্টি বলেই জানে।
আমার হৃদয় যখন খরতাপে উতপ্ত,
ঠিক তখন বৃষ্টি তার শীতল পরশে আমায় ভিজিয়ে দিত।
সে কি বৃষ্টি! উন্মাতাল এলোমেলো বৃষ্টি!!!
আহা!! কি যে সুখ!!!

শ্রাবণের অঝোর বৃষ্টি এবার বর্ষা রূপে দেখা দিল!
বর্ষার অবিরাম বর্ষণে সব কিছু ভিজে একাকার.........
সময় সময় ভাবতাম, আহ!!! বর্ষা! এবার শান্ত হও।
কিন্তু বর্ষা শান্ত হয়নি, থামেনি সে.........

এখন তার নাম বন্যা!!!!
বানের জলে আমায় ভাসিয়ে নিয়ে এসেছে শুনশান এক নিঃসঙ্গ দ্বীপে।
যেখানে আমার সঙ্গী শরতের নীল আকাশ, আর সাগরের নীল রঙ।
নীলে নীলে আমিও নীল হয়ে তবু জীবিত।

মেঘবালিকা-বৃষ্টি-বর্ষা-বন্যা যে নামেই ডাকি, কেউ নেই এখন।
অতঃপর সে এখন নারী!!!!
তার স্বপ্নলোকে বসৎ করে ভীন রাজ্যের রাজপুত্র,
যে তার ইচ্ছা আকাঙ্খাগুলোকে সোনায় মূরিয়ে দেবে!

জানি আমি তোমার দু’চোখ আজ
আমাকে খোঁজেনা আর পৃথিবীর’ পরে-
বলে চুপে থামলাম, কেবলি অশত্থ
পাতা পড়ে আছে ঘাসের
ভিতরে শুকনো মিয়োনো ছেঁড়া;- অঘ্রান
এসেছে আজপৃথিবীর বনে;
সে সবের ঢের আগে আমাদের দুজনের মনে হেমন্ত
এসেছে তবু; বললে সে, ‘ঘাসের ওপরে সব
বিছানো পাতার
মুখে এই নিস্তব্ধতা কেমন যে-
সন্ধ্যারআবছা অন্ধকার
ছড়িয়ে পড়েছে জলে; কিছুক্ষণ অঘ্রাণের অস্পষ্ট
জগতে হাঁটলাম, চিল উড়ে চলে গেছে-কুয়াশার প্রান্তরের
পথে
দু-একটা সজারুর আসা-যাওয়া; উচ্ছল
কলারঝড়ে উড়ে চুপে সন্ধ্যার
বাতাসে লক্ষ্মীপেঁচা হিজলের ফাঁক দিয়ে বাবলার
আঁধার গলিতে নেমে আসে;
আমাদের জীবনের অনেক অতীত
ব্যাপ্তি আজো যেন
লেগে আছে বহতা পাখায়
ঐ সব পাখিদের ঐ সব দূর দূর ধানক্ষেতে,
ছাতকুড়োমাখা ক্লান্ত জামের শাখায়;
নীলচে ঘাসের ফুলে ফড়িঙের হৃদয়ের
মতো নীরবতা ছড়িয়ে রয়েছে এই
প্রান্তরে বুকে আজ…… হেঁটে চলি…..
আজ কোনো কথা
নেই আর আমাদের; মাঠের কিনারে ঢের
ঝরা ঝাউফল
পড়ে আছে; খড়কুটো উড়ে এসে লেগে আছে শড়ির
ভিতরে,
সজনে পাতার গুঁড়ি চুলে বেঁধে গিয়ে নড়ে-চড়ে;
পতঙ্গ পালক্ জল-চারি দিকে সূর্যের
উজ্জ্বলতা নাশ;
আলোয়ার মতো ওই
ধানগুলো নড়ে শূন্যে কী রকম অবাধ আকাশ
হয়ে যায়; সময়ও অপার-তাকে প্রেম আশা চেতনার কণা
ধরে আছে বলে সে-ও সনাতন;-কিন্তু এই ব্যর্থ
ধারণা
সরিয়ে মেয়েটি তাঁর আঁচলের
চোরাকাঁটা বেছে প্রান্তর নক্ষত্র নদী আকাশের
থেকে সরে গেছে যেই স্পষ্ট নির্লিপ্তিতে-তাই-ই
ঠিক;- ওখানে সিগ্ধ হয়
সব।
অপ্রেমে বা প্রেমে নয়- নিখিলের বৃক্ষ নিজ
বিকাশে নীরব।

MARI themes

Powered by Blogger.